অনলাইনে নিরাপত্তার' ব্যাপারটা এখন সবাই কমবেশি বুঝি এবং সচেতন। সকলে চাই একটি নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমানে ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপ মানুষের এই চাহিদাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনকার প্রায় সকল মানুষ এই যারা মোটামুটি ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা বেশিরভাগই মেসেঞ্জার বা হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যস্ত। কিন্তু আপনি কি জানেন এমন একটি প্রাইভেট মেসেঞ্জার অ্যাপ রয়েছে যেটিতে ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটস অ্যাপের থেকেও অনেক ভালো ফিচারস রয়েছে। তাহলে চলুন অতিরিক্ত কথা না বাড়িয়ে এপ্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
অ্যাপ্লিকেশনের নাম: ( App name)
Signal private messenger গুগল প্লে স্টোর থেকে এখন পর্যন্ত 50 মিলিয়ন বারেরও বেশি ইন্সটল হওয়া এই অ্যাপ্লিকেশনটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিন দিন। এক মিলিয়নের বেশি রিভিউ নিয়ে 4.4 রেটিং প্রাপ্ত এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে এতে কি সকল দারুন ফিচারস রয়েছে।
অ্যাপ্লিকেশনটি যেভাবে ব্যবহার করবেন: ( How to use this app)
অ্যাপসটি গুগল প্লে স্টোরে ফ্রিতে পেয়ে যাবেন। ইনস্টল করার পর আপনাকে সাইন আপ করতে বলবে নির্দিষ্ট তথ্য সাবমিট দিয়ে একাউন্ট তৈরী করে নিন।
অ্যাপসটিতে যা যা রয়েছে: ( Features of the Signal private messenger)
হোমপেজে আসার পর আপনি চাইলেই আপনার বন্ধুদের সাথে কথা বলা শুরু করতে পারবেন। এজন্য শুধুমাত্র আপনাকে চ্যাট নামক অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনার বন্ধুকে ম্যাসেজ পাঠাতে পারবেন এছাড়াও অডিও ভিডিও বয়েজ এবং ফাইলস পাঠানোর সুবিধা এতে রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নিজের লোকেশন শেয়ার করার সিস্টেম।
চাইলে আপনার প্রিয় মানুষদের নিয়ে নতুন গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এছাড়াও যারা অ্যাপ্লিকেশনটি এখনো ব্যবহার করছে না তাদের ইনভাইট পাঠাতে পারেন।
সেটিংস থেকে নিজের পছন্দমত অ্যাপ্লিকেশনটি কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন এর জন্য আপনাকে সেটিংস এর সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। সেটিংস অপশনটি তে যা যা রয়েছে।
একাউন্ট: ( Account)
এখান থেকে আপনি আপনার এপলিকেশন টিপস পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন এছাড়াও আপনার যদি অন্য কোন অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে সেটিকে এখানে ট্রানস্ফার করে নিয়ে আসতে পারবেন। এছাড়াও চাইলে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিতে পারেন সেজন্য আপনাকে ডিলিট অ্যাকাউন্ট নামক অপশনটি বাছাই করতে হবে।
অ্যাপিয়ারান্স: ( Appearance)
এখান থেকে অ্যাপসটির সৌন্দর্যবর্ধন করতে পারবেন। যেমন থিম পরিবর্তন করা, চ্যাট ওয়ালপেপার পরিবর্তন, মেসেজ ফন্ট সাইজ পরিবর্তন, এছাড়াও ভাষা পরিবর্তন করার সুবিধাও এখানে রয়েছে। এরপরের চ্যাট অপশন টি আপনি চাইলে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে পারেন।
এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের ফিচারস রয়েছে যেমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা প্রাইভেসি মেইনটেন করা শহর ডাটা এন্ড স্টোরেজঃ ম্যানেজ করার মত অপশন গুলো এখানে সহজেই পেয়ে যাবেন।
চ্যাট করার ফিচারস সমূহ: ( Chat's features)
অডিও ভিডিও ছবি এবং ফাইল এছাড়া লোকেশন পাঠানো ছাড়াও আপনি আরো কিছু ফিচারস পেয়ে যাবেন চ্যাট অপশন টিতে। উপরে ডান দিকের কোনায় থ্রি ডট মেনুতে ক্লিক করলে আপনি প্রথমে যে অপশন টি দেখতে পাবেন সেটি হচ্ছে disappearing messages. এই অপশনটি দ্বারা আপনি চাইলে আপনার সমস্ত বার্তা যেগুলো আদান প্রদান করেছেন সবগুলো মুহূর্তেই মুছে ফেলতে পারবেন। আর সেটি করতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থাৎ পাঁচ সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত আপনি চাইলে আপনার এই বার্তাগুলি কে অদৃশ্য করে রাখতে পারবেন সুতরাং কেউ চাইলেও আপনার মেসেজগুলো পড়তে পারবেনা।
এছাড়াও পরের অপশন all media দ্বারা আপনি যতগুলো মিডিয়া ফাইল আদান প্রদান করেছেন সেগুলো একসাথে দেখতে পাবেন। Conversation setting এই অপশনটি থেকে আপনি চাইলে কনভারসেশন কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। ধরুন আপনি একটি মেসেজ পাঠালে কিছু দিন পর সেটি আপনার দরকার পড়ল। কিন্তু সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না সে ক্ষেত্রে আপনি 14 নাম্বারে থাকা search নামক অপশনটি বাছাই করে আপনার কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি খুঁজে পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। Add to home screen এটির মাধ্যমে আপনি চাইলে আপনার ফোনের প্রথম পেজ এ অ্যাপ্লিকেশনটি কে নিয়ে আসতে পারবেন ফলে আপনি খুব সহজেই অ্যাপ্লিকেশনটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে reset secure session এবং add to connect সুবিধা।
সুতরাং তাহলে আর দেরি কেন চাইলে এখনই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে এর সমস্ত ফিচারস গুলো মজা নিতে পারেন।
0 Comments